ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিটে ভর্তি: যোগ্যতা ও ভর্তি পরীক্ষার তথ্য ২০২৬–২৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে ক ইউনিট নামে পরিচিত বিজ্ঞান ইউনিট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট। বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকায় প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
তবে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক আছে কি না, তা জেনে নেওয়া জরুরি। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ক ইউনিট বা বিজ্ঞান ইউনিটে ভর্তির যোগ্যতা নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
ক ইউনিটের নাম কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভর্তি ব্যবস্থায় পুরোনো ক ইউনিটকে বিজ্ঞান ইউনিট বলা হয়। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে, যার একটি হলো বিজ্ঞান ইউনিট।
ক ইউনিটে আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতা
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে-
- ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএ বিবেচনা করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায়-
- দুই পরীক্ষার জিপিএর যোগফল কমপক্ষে ৮.০০ হতে হবে।
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-দুই পরীক্ষাতেই আলাদাভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে।
অর্থাৎ শুধু মোট জিপিএ ৮.০০ হলেই হবে না; প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩.৫০ জিপিএ থাকতে হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবে?
হ্যাঁ। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদন করার সুযোগ পাবে।
তাদের ক্ষেত্রে-
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার জিপিএর যোগফল কমপক্ষে ৭.৫০ হতে হবে।
- দুই পরীক্ষাতেই আলাদাভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।
এক নজরে ঢাবি ক ইউনিটের ভর্তি যোগ্যতা
| শিক্ষার্থীর বিভাগ | দুই পরীক্ষার জিপিএর যোগফল | প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ |
| বিজ্ঞান | ৮.০০ | ৩.৫০ |
| মানবিক | ৭.৫০ | ৩.০০ |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ৭.৫০ | ৩.০০ |
মনে রাখবে: জিপিএর হিসাব চতুর্থ বিষয়সহ করা হবে।
ভর্তি পরীক্ষা কেমন হবে?
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।
এর মধ্যে-
- ভর্তি পরীক্ষা: ১০০ নম্বর
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল: ২০ নম্বর
ভর্তি পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী ও লিখিত- দুই ধরনের পরীক্ষা থাকবে। প্রতিটির জন্য ৪৫ মিনিট করে, অর্থাৎ মোট ৯০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন আবশ্যিক। এ ছাড়া গণিত ও জীববিজ্ঞান অথবা, শুধুমাত্র ৪র্থ বিষয়ের পরিবর্তে বাংলা অথবা ইংরেজি বিষয়সহ মোট চারটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
- মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বাধ্যতামূলক। গণিত/পরিসংখ্যান/মনোবিজ্ঞান/ভূগোল/অর্থনীতি বিষয়সমূহ হতে একটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে মোট চারটি বিষয় পূর্ণ করতে হবে।
- প্রতি বিষয়ের জন্য বরাদ্দ নম্বরঃ ২৫ (MCQ ১৫ + লিখিত ১০)
- MCQ অংশে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে এবং তা বিষয়ভিত্তিক সমন্বয় করা হবে
- MCQ অংশে পাস নম্বর ২৪ এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ১২; তবে ১০০ নম্বরের মধ্যে মোট ৪০ নম্বর না পেলে তাকে ভর্তির জন্য বিবেচনা করা হবে না।
ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কবে?
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১২ ডিসেম্বর ২০২৬, শনিবার।
পরীক্ষার সময় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাবি ক ইউনিটের বিষয়ভিত্তিক আসন সংখ্যা (DU A Unit Subject List & Seats)
| ভর্তির বিভাগ/বিষয় | আসন সংখ্যা | ভর্তির বিভাগ/বিষয় | আসন সংখ্যা |
| পদার্থবিজ্ঞান | ১০০ | প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান | ৬০ |
| গণিত | ১৩০ | মনোবিজ্ঞান | ৮০ |
| রসায়ন | ৯০ | অণুজীব বিজ্ঞান | ৪০ |
| পরিসংখ্যান | ৯০ | মৎস্যবিজ্ঞান | ৪০ |
| ফলিত গণিত | ৬০ | জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি | ৩০ |
| মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ | ১০০ | ফার্মেসী | ৮৫ |
| উদ্ভিদবিজ্ঞান | ৭০ | ভূগোল ও পরিবেশ | ৮০ |
| প্রাণিবিদ্যা | ৮০ | ভূতত্ত্ব | ৫০ |
| সমুদ্রবিজ্ঞান | ৪০ | রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং | ৩০ |
| ডিজাস্টার সায়েন্স এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স | ৪০ | এপ্লাইড স্ট্যাটিসটিকস এন্ড ডাটা সায়েন্স | ৫৫ |
| আবহাওয়াবিজ্ঞান | ৩০ | পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান | ৪০ |
| ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং | ৭৫ | সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং | ৫০ |
| ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল | ৬০ | লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং | ৫০ |
| কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং | ৬৫ | ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং | ৫০ |
| নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং | ৩০ | ভৌত বিজ্ঞান ২২ + জীববিজ্ঞান ১৯ | ৪১ |
| মোট | ১৮৯১ |
গুরুত্বপূর্ণ কথা
ক ইউনিটে আবেদন করার আগে শুধু মোট জিপিএ দেখলেই হবে না। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক- দুই পরীক্ষার আলাদা জিপিএ এবং পাসের বছর অবশ্যই মিলিয়ে দেখতে হবে।
এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করাই মূল বিষয়। কারণ ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না; ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ও মেধাক্রমের ভিত্তিতেই পরবর্তী ধাপে বিষয় ও আসন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
শেষ কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটে ভর্তি হতে চাইলে শুরুতেই নিজের এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ, পাসের বছর এবং শাখা মিলিয়ে যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো। এরপর ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করলে প্রস্তুতিকে আরও পরিকল্পিত করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি সংক্রান্ত নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে যোগ্যতা, সময়সূচি বা অন্যান্য নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।
