why clouds float
|

মেঘ আকাশে ভেসে থাকে কীভাবে?

আকাশের দিকে তাকালে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে থাকতে দেখা যায়। দেখতে হালকা মনে হলেও একটি বড় মেঘের মধ্যে থাকতে পারে বিপুল পরিমাণ পানি।

তাহলে প্রশ্ন হলো- এত পানি থাকা সত্ত্বেও মেঘ আকাশে ভেসে থাকে কীভাবে?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে মেঘের গঠন, ক্ষুদ্র জলকণা এবং বাতাসের গতিবিধির মধ্যে।

মেঘ আসলে কী দিয়ে তৈরি?

মেঘ আসলে তুলোর মতো কোনো কঠিন বস্তু নয়। এটি তৈরি হয় অত্যন্ত ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফের কণা দিয়ে।

পৃথিবীর নদী, সমুদ্র, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয় থেকে পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। এই জলীয়বাষ্প ওপরে উঠে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পরিবেশে পৌঁছালে তা ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফের কণায় পরিণত হয়।

অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণা একত্রিত হয়েই তৈরি হয় মেঘ।

তাহলে মেঘ পড়ে যায় না কেন?

এখানেই রয়েছে মূল বিষয়।

মেঘের জলকণাগুলো অত্যন্ত ছোট। তাই প্রতিটি কণার ওপর মহাকর্ষের টান থাকলেও বাতাসের প্রতিরোধ এবং ওপরে ওঠা বায়ুপ্রবাহ তাদের ধীরে ধীরে নিচে নামতে বাধা দেয়।

একই সঙ্গে মেঘের ভেতরের ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ (updraft) ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণাগুলোকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

তাই মেঘকে আসলে একটি বিশাল পানির পাত্রের মতো ভাবা ঠিক নয়। এর ভেতরের পানি অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র কণায় ছড়িয়ে থাকে।

মেঘের পানি তাহলে মাটিতে আসে কীভাবে?

মেঘের ভেতরের ক্ষুদ্র জলকণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

যখন জলকণা বা বরফকণা এত বড় ও ভারী হয়ে যায় যে বাতাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ আর তাকে ধরে রাখতে পারে না, তখন তা নিচের দিকে পড়তে শুরু করে।

এইভাবেই তৈরি হতে পারে বৃষ্টি বা তুষারপাত। অর্থাৎ-

ক্ষুদ্র কণা মেঘে ভাসে কণা বড় হয় ভারী হয়ে যায় নিচে পড়ে বৃষ্টি

একটি মজার বিষয়

মেঘের ভেতরে সত্যিই অনেক পানি থাকতে পারে। কিন্তু সেই পানি বিশাল একটি পানির বলের মতো এক জায়গায় জমে থাকে না। অসংখ্য ক্ষুদ্র কণার মধ্যে ছড়িয়ে থাকে।

এ কারণেই একটি বড় মেঘকে দূর থেকে দেখলে হালকা ও তুলোর মতো মনে হয়।

সাদা মেঘ কালো হয় কেন?

সব মেঘ কিন্তু সাদা থাকে না।

পাতলা মেঘের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো সহজে প্রবেশ করতে পারে বলে সেগুলো সাদা দেখায়। কিন্তু মেঘ যখন অনেক ঘন ও পুরু হয়ে যায়, তখন সূর্যের আলো তার ভেতর দিয়ে কম পরিমাণে আমাদের চোখে পৌঁছায়। নিচ থেকে তখন মেঘকে ধূসর বা কালো দেখাতে পারে।

এ ধরনের ঘন মেঘের সঙ্গে অনেক সময় বৃষ্টিও যুক্ত থাকে।

এক কথায় উত্তর

মেঘ আকাশে ভেসে থাকে কারণ মেঘের জলকণা ও বরফকণাগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র, আর বায়ুর প্রতিরোধ ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ তাদের নিচে পড়ে যেতে বাধা দেয়। কণাগুলো বড় ও ভারী হয়ে গেলে তারা বৃষ্টি বা তুষার হিসেবে নিচে পড়ে।

জানো কি?

মেঘকে আকাশে স্থির কোনো বস্তু ভাবা ঠিক নয়। মেঘের ভেতরের জলকণা ও বরফকণা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, বাতাসের সঙ্গে চলাচল করছে এবং কখনো বড় হয়ে বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হচ্ছে।

FAQs

আরও পড়ুন: আকাশ নীল কেন?

মেঘ আকাশে ভেসে থাকে কীভাবে?

মেঘের ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণাকে বাতাসের প্রতিরোধ এবং ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

মেঘ কি আসলেই পানি দিয়ে তৈরি?

হ্যাঁ। মেঘ মূলত ক্ষুদ্র জলকণা এবং অনেক ক্ষেত্রে বরফকণা দিয়ে তৈরি।

মেঘের ওজন অনেক হলে নিচে পড়ে না কেন?

মেঘের পানি অসংখ্য ক্ষুদ্র কণায় ছড়িয়ে থাকে। কণাগুলো ছোট থাকলে বাতাসের প্রবাহ ও প্রতিরোধ তাদের নিচে পড়তে বাধা দেয়।

মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় কীভাবে?

মেঘের ক্ষুদ্র জলকণাগুলো একত্রিত হয়ে বড় ও ভারী হলে বায়ুপ্রবাহ আর সেগুলোকে ধরে রাখতে পারে না। তখন সেগুলো বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে নিচে পড়ে।

JanaOjana — জানুন, ভাবুন, আরও কৌতূহলী হোন।

You May Like